Bishwajit Sarker

এই প্রথম পর্বে ফটোগ্রাফার বিশ্বজিত সরকারের জীবনের শুরুর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তার শৈশবের অনুপ্রেরণা, ফটোগ্রাফিতে প্রবেশের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা এবং ফিল্ম ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল যুগে যাওয়ার সময়ে ছবির বিশ্বস্ততা নিয়ে তার ভাবনা আলোচিত হয়েছে।

শুরুর দিনগুলো: ভালো লাগা থেকেই হাতেখড়ি

ছোটবেলা থেকেই বিশ্বজিত সরকারের ছবি তোলার প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। তার মামা ফটোগ্রাফি করতেন, যাঁকে দেখেই তার আগ্রহ জন্মায়। বাবার এক বন্ধুর দেওয়া ক্যামেরা তার প্রথম হাতেখড়ি ছিল। ছবিগুলো ভালো হতো বলে ক্যামেরা প্রায় সবসময় তার হাতে থাকত। মজার বিষয় হলো, এই কারণে ছোটবেলায় তার নিজস্ব ছবি তোলা হয়ে ওঠেনি।

পেশাদার জীবনে প্রবেশ ও ফ্যাশনের দিকে ঝোঁক

ফটোগ্রাফির প্রতি ভালোবাসা ধীরে ধীরে পেশার দিকে মোড় নিল। ১৯৯৬ সালে তিনি এসএলআর ক্যামেরা হাতে নেন। তখন ছিল ফিল্মের যুগ, ডিজিটাল নয়। এরপর তিনি টুকটাক প্রফেশনাল কাজ শুরু করেন—পোর্ট্রেট বা পোর্টফোলিও তৈরি করা। ১৯৯৭ সালের শেষের দিকে ‘অন্যদিন’ নামে একটি পাক্ষিক ম্যাগাজিনে ফটোসাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।

ফটোসাংবাদিক হিসেবে তিনি সেলিব্রিটি, স্পোর্টস, এবং লাইফস্টাইল ফটোগ্রাফিতে কাজ করেন। কাজের অভিজ্ঞতা তাকে ফ্যাশন ও গ্ল্যামার ফটোগ্রাফিতে ঝোঁক দিতে শুরু করে। ম্যাগাজিনের চার রঙের প্রকাশনায় তার গ্ল্যামার ছবি প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে, সুবিধার জন্য তিনি নিজের একটি প্রফেশনাল স্টুডিও তৈরি করেন।

দীর্ঘ পথচলা: টিকে থাকার রহস্য

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টিকে থাকার কারণ সম্পর্কে বিশ্বজিত সরকার মনে করেন, তিনি এখনও তার কাঙ্ক্ষিত ফটোগ্রাফিটি খুঁজছেন। তাই হয়তো ফটোগ্রাফির প্রতি তার নেশা এখনো বজায় আছে। যারা পেশা ছেড়ে যান, সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম বা অসুস্থতার কারণে ফটোগ্রাফি থেকে দূরে থাকেন, তবে তাঁরা টিচিং বা নতুন প্রজন্মকে প্রমোট করে ফটোগ্রাফি চালিয়ে যান। তিনি মনে করেন, মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি শারীরিক ফিটনেস ফটোগ্রাফির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফিল্ম বনাম ডিজিটাল: মৌলিকত্বের প্রশ্ন

ফিল্মের যুগে এক্সপোজারে ছোট ভুলও ঠিক করা যেত না। ডিজিটাল যুগে পোস্ট-প্রোডাকশনের মাধ্যমে অনেক কিছু ঠিক করা সম্ভব, যা ফটোগ্রাফিকে সহজ করেছে। তবে এর ফলে ছবির মৌলিকত্ব কিছুটা ক্ষুন্ন হয়েছে, কারণ আউটপুটে এডিটিংয়ের মাধ্যমে ছবির প্রকৃত চরিত্র বদলে যায়।

ছবির বিশ্বস্ততা নিয়ে বিতর্ক

পূর্বে ছবিকে প্রমাণ বা প্রুফ হিসেবে গণ্য করা হতো। বর্তমানে ছবির সত্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। আধুনিক পোস্ট-প্রোডাকশনের মাধ্যমে একই ফ্রেমে দুই ভিন্ন জায়গার মানুষকেও দেখানো সম্ভব। এই কারণে ফটোগ্রাফির বিশ্বস্ততা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ভালোবাসা থেকে পেশা

ফটোগ্রাফি কখনো বিশ্বজিত সরকারের কল্পনায় পেশা হবে তা ছিল না। এটি ছিল শুধু তার ভালো লাগার বিষয়। কিন্তু জীবিকা নির্বাহের জন্য এটি ধীরে ধীরে তার পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

Interview taken from: JugerChinta24

Scroll to Top