Bishwajit Sarker

বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশন-এর বহুল দর্শকপ্রিয় সকালের অনুষ্ঠান ‘রাঙা সকাল’-এ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করা আমার জীবনের সম্মানজনক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন ধরে একজন আলোকচিত্রী ও শিল্পী হিসেবে কাজ করলেও ক্যামেরার সামনে নিজের জীবন ও কাজের গল্প তুলে ধরার এই মুহূর্তটি ছিল আমার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। এই আমন্ত্রণ আমাকে সত্যিই বিনীত ও কৃতজ্ঞ করেছে।

শৈশব, প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে বেড়ে ওঠা

অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ফিরে গিয়েছিলাম ফরিদপুরের সবুজ প্রকৃতি, নদী, গাছপালা আর গ্রামবাংলার জীবনে। বাবা-মায়ের সরকারি চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে হয়েছে। বারবার স্কুল বদলানো, নতুন মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া—এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে মানুষের অনুভূতি বোঝা এবং ক্যামেরার ফ্রেমে গল্প ধরতে শিখিয়েছে।

ক্যামেরার সাথে প্রথম পরিচয়

আমার ফটোগ্রাফির যাত্রা শুরু হয় বাবার ক্যামেরা ও মামার ফটো স্টুডিও থেকে। ডার্করুমের আলো-আঁধারি, নেগেটিভ থেকে ছবির জন্ম নেওয়ার সেই জাদু আমাকে ছোটবেলাতেই গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। তখন বুঝিনি, একদিন এই ক্যামেরাই হয়ে উঠবে আমার জীবনের ভাষা।

ফটোসাংবাদিকতা থেকে বহুমাত্রিক ফটোগ্রাফি

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফটোসাংবাদিক হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করি। পাক্ষিক অন্যদিন পত্রিকায় প্রধান আলোকচিত্রীর দায়িত্ব পালন আমাকে পরিচিত করে তোলে বৃহত্তর পাঠকের কাছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের শীর্ষ ফ্যাশন হাউস অঞ্জনসক্রাফট-এর অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই। ফ্যাশনের পাশাপাশি পোর্ট্রেট, ফুড, ট্রাভেল ও লাইফস্টাইল ফটোগ্রাফি আমার কাজের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।

নাট্যচর্চা ও অভিনয়: শিল্পের আরেক ভাষা

ফটোগ্রাফির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আমি যুক্ত আছি নাট্যচর্চার সঙ্গে। নাট্যধারা থিয়েটার গ্রুপের একজন কর্মী হিসেবে হ্যামলেট, অগ্নিজল, চাঁদের অমাবস্যাসহ একাধিক মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছি। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র চন্দ্রকথাশ্যামল ছায়া-তে অভিনয় ও স্টিল ফটোগ্রাফির কাজ করা আমার জীবনের অত্যন্ত গর্বের অধ্যায়।

কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ

মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘রাঙা সকাল’-এ উপস্থিত হয়ে আমি আবারও উপলব্ধি করেছি—এই দীর্ঘ পথচলা একার নয়। পরিবার, সহকর্মী, থিয়েটারের মানুষ, সম্পাদক ও শিল্পীদের সম্মিলিত ভালোবাসা ও সহায়তাতেই আজ আমি এখানে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আমাকে নতুন করে দায়িত্ববোধ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা ও কাজের সংরক্ষণ

ফটোগ্রাফিতে প্রায় তিন দশকের পথচলার পর এখন আমার প্রধান লক্ষ্য নিজের কাজগুলো সংরক্ষণ করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও সময়কে দলিল হিসেবে রেখে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমি আমার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে ধীরে ধীরে কাজগুলো আর্কাইভ করছি—কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং গবেষণা ও অনুপ্রেরণার জন্য।

Interview taken from: Maasranga Television

Scroll to Top